আগামী ১৮০ দিনের মধ্যেই মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর জেটি ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই বন্দরের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। এতে এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, অল্প কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে মোংলা বন্দরকেও চট্টগ্রাম বন্দর-এর মতো সফল ও পূর্ণ সক্ষম বন্দরে দ্রুত সময়ে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের শতভাগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক বন্দরে রূপান্তর করা হবে। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় মোংলা বন্দরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ছয় মাসের মধ্যে মোংলা বন্দরের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন রেল কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজন করে মোংলা-খুলনা রেলপথে একাধিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোংলা বন্দরের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের বাতিল বা স্থগিত হওয়া উন্নয়ন চুক্তি পুনরায় চালু করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
তিনি জানান, পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে যেগুলো দেশের জন্য ইতিবাচক ও লাভজনক, সেগুলো পুনরায় কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তবে যেসব চুক্তির কারণে দেশ আর্থিক বা কৌশলগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করা যাবে কিনা তা গভীর পর্যালোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন মন্ত্রী। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) ও পরিচালক (প্রশাসন) আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. আনিসুর রহমান এবং পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, নাব্যতা রক্ষা, রেল ও সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং উপস্থাপন করা হয়।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর