রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তারাবির নামাজের পর উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বড় চৌবাড়িয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩০ শতাংশ জমি নিয়ে বড় চৌবাড়িয়া গ্রামের মৃত মনতাজ মন্ডলের ছেলে উকিল মন্ডল এবং মৃত দিয়ানত শেখের ছেলে আব্দুল গফুর শেখের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে দুই পরিবারের ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চার জনকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন দড়ি চৌবাড়ীয়া গ্রামের মৃত মোন্তাজ মন্ডলের ছেলে মোহাম্মদ আলী, মৃত মোক্তার মন্ডলের ছেলে ঝন্টু মন্ডল, আহম্মদ মন্ডল, সজীব মন্ডল।
অপর পক্ষে আহতরা হলেন -পেপুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত তায়েজ উদ্দিন খাঁ এর ছেলে খয়বার খা, রমজান আলির ছেলে রতন, মৃত ছাকেন বিশ্বাসের ছেলে লিয়াকত আলি বিশ্বাস, একেন বিশ্বাসের ছেলে নাঈম বিশ্বাস, খয়বর খা এর ছেলে রনি, মিরাজ, রমজান আলীর স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও তাজুদ্দিনের স্ত্রী নুসরাত জাহান।
এদিকে উভয় পরিবার বিরোধ পূর্ণ জমি নিজেদের দাবী করে আসছে, এ নিয়ে একাধিকবার গ্রামে, থানায় শালিশ হলেও বিষয়টি মানতে নারাজ আব্দুল গফুর শেখের পরিবার বলে অভিযোগ করেন মন্টু মন্ডল, তিনি বলেন জোরপূর্বক আমাদের জমি দখল করার জন্য বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা করেছে আমাদের রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেইনি বাধ্য হয়ে আমরা বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এদিকে মারামারির ঘটনাটি দড়ি চৌবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়ির সামনে হলেও অপর পক্ষ বলেছিল মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে প্রকৃত পক্ষে হামলাকারীরা মসজিদ থেকে নয় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই এমন ঘটনা বলে দাবী আহত মোহাম্মদ আলীর পরিবারের।
এছাড়া এ ঘটনার পর থেকে নারী পুরুষ সকলকেই নানা ভাবে হুমকি দেওয়ার প্রমানও পাওয়া গেছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গফুর শেখের ভাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর