আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী এলাকার ফুটপাত ও কয়েকটি সেতু দখল করে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুটপাত দখলের পাশাপাশি একাধিক সেতু দখল করেও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ভোগান্তি বেড়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গার্মেন্টস পল্লী ঘিরে শুভাঢ্যা খালের ওপর তিনটি সেতু রয়েছে। এই সেতুগুলোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন ও লক্ষাধিক জনসাধারণ চলাচল করে। যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কালিগঞ্জ জোড়া সেতু ও নদীর পাড়ের জিলা পরিষদ মার্কেট সেতুর ওপর জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত দখল করে বাবুলের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক চশমা, ব্যাগ ও ঘড়ির অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি দোকান থেকে এককালীন ২০০০ টাকা ও প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নত বাবদ আলাদা টাকা তোলা হচ্ছে।
এছাড়াও জোড়া সেতুর ঢাল থেকে জেলা পরিষদ মার্কেট বরাবর বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২০০ শতাধিক অস্থায়ী দোকান বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সকল দোকান থেকেও এককালীন ১ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে ঈদ মৌসুমে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা তোলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদ মার্কেটের একজন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী জানান, বিগত জুলাই আন্দোলনের পর থেকে ফুটপাতের দোকানপাট বসানো পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফুটপাতে দোকান বসালে তাঁদের লক্ষ লক্ষ টাকা পজিশন নেওয়া দোকানে পাইকারদের মালামাল ক্রয় করতে এবং পরিবহনে অসুবিধা হয়। তিনি বলেন, “শুনেছি বর্তমান সরকারের স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ফুটপাতের দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করছে।”
ইসলাম প্লাজা মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী জানান, গার্মেন্টস পল্লী এমনিতেই ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এখানে আসতে পারবে না এবং কেউ অসুস্থ হলেও অ্যাম্বুলেন্স আসারও কোনো সুযোগ নেই।
ব্রিজের ওপর যানজটে রিকশায় বসে থাকা যাত্রী ইলিয়াস হোসেন জানান, অস্থায়ী দোকানগুলো ফুটপাতের ওপর তৈরি করায় সাধারণ পথচারীরা ব্রিজের মাঝখান দিয়ে চলাচল করছে। এতে করে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, তাই তাঁদের যানজটে পড়ে বসে থাকতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “মুষ্টিমেয় সরকার দলীয় নেতাকর্মী পকেট ভারি করতে জনসাধারণের চলাচলের সেতু লক্ষ টাকায় ভাড়া দিয়ে এলাকাবাসীকে কষ্ট দিচ্ছে।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক জানান, সেতু এবং রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত করে ফুটপাতে দোকান বসানো আইনত দণ্ডনীয়। তিনি বলেন, “আমরা এ বিষয়ে খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নেব।”
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর