চলমান যুদ্ধের ১০তম দিনে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তেল ও জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধকে “নতুন পর্যায়ে” নিয়ে গেছে।
ইরানের পরিস্থিতি:
ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কট্টরপন্থীরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-এর পক্ষে একজোট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) জানিয়েছে তারা নতুন নেতার জন্য “পুরোপুরি আনুগত্য ও জীবন উৎসর্গ করতে” প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণ মূলত তার বাবার কঠোর নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব:
আন্তর্জাতিক তেলের দাম $100 প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথম।
যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে “খুব ছোট মূল্য” বলে উল্লেখ করেছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা:
ইসরায়েল লেবানন ও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
বাহরাইন জানিয়েছে, সিত্রা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করেছে।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের বৈরুত-এর রামাডা হোটেলে আগুন ও ক্ষতি ঘটেছে, চারজন নিহত হয়েছেন।
মানবিক প্রভাব:
ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ১৬৮ শিশু নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকে শহর ত্যাগ করতে ভাবছেন, কারণ ইসরায়েলের তেল ডিপোতে হামলা “যুদ্ধের সবচেয়ে ভারী বোমাবর্ষণ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া:
ডেফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ বলেছেন, শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রণালয় সৌদি আরব থেকে অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এবং ইসরায়েল মিলে যুদ্ধ শেষের সময় ও “শর্ত নির্ধারণ” করবেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি, আঞ্চলিক হামলা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে পারে।
সূত্র- সিএনএন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর