বিভিন্ন ধর্মীয় গানের সুরে এলাকার যুবক ও বয়স্করা মিলে রাধা-কৃষ্ণের যুগল রূপে সজ্জিত হয়ে বৈরাগী ও ভোলামহেশ্বর শিবের চ্যালার রূপে নববর্ষের আগমন কে ধারণ করে প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় গিয়ে গানের সঙ্গে তালে তালে পা দুলিয়ে নাচে। এই নাচকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ 'নীল নৃত্য' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ঐতিহ্যের এই নীল নাচ যুগ যুগ ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখে আয়োজন করেন। সোমবার (১৩এপ্রিল) পঞ্জিকা মতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শেষ চৈত্র বা নববর্ষের আগমন উপলক্ষে বরগুনা সদরের আমতলা পাড়ে এমনই নীল নৃত্যের দেখা মিলেছে।
বরগুনার বাসিন্দারা জানান, একসময় চৈত্রমাসজুড়ে নীল নৃত্য হতো,নানা প্রতিকূলতায় হাজারো বছরের এই নৃত্য আজ হারিয়ে যাচ্ছে।প্রতিটি নীল নাচের দলে ১০-১২ জনের রাধা, কৃষ্ণ, শিব, পার্বতী, নারদসহ সাধু পাগল (ভাংরা) সেজে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি নীল নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন। গ্রাম-বাংলার সব মানুষের কাছে দারুণ উপভোগ্য এই নীল নাচ। নীল পূজার জন্য নীল নাচের দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল আর নগদ অর্থ সংগ্রহ করে।
নৃত্য পরিচালনার দলনেতা বিধান চন্দ্র রায় বলেন,হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক ধর্ম মতে, দেবতা শিব সমুদ্র মন্থনে বিষপান করে নীলকণ্ঠ ধারণ করেছিলেন। আবার বৈদিক হিন্দু ধর্ম মতে, সূর্য অস্ত গেলে চারিধার গাঢ় অন্ধকার হয়ে আসে। গাঢ় অন্ধকার নীল বর্ণের হয়। এখানে বছরের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার প্রতীকী হলো এই নীল। নববর্ষের প্রথম প্রহরে রাধা-কৃষ্ণের রূপে সজ্জিত যুবকদের পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় নেচে-গেয়ে চাল, ডাল সংগ্রহ করে ওই বাড়িতেই রাতে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর