• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৬ মিনিট পূর্বে
মাসউদুর রহমান
লেখক ও সাংবাদিক
প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত

২০২৬ এপ্রিল: তীব্র তাপপ্রবাহ ও শক্তিশালী এল নিনোর পদধ্বনি

ফাইল ফটো

মাসউদুর রহমান: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসটি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের এক নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী 'এল নিনো' (El Nino) পরিস্থিতির সম্ভাব্য আবির্ভাব—সব মিলিয়ে মাসটি ছিল প্রাকৃতিক চরমভাবাপন্নতার এক চরম উদাহরণ।

এপ্রিল মাসজুড়েই দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি উষ্ণতম শহরের সবকটিই এই অঞ্চলে অবস্থান করছিল। বাংলাদেশেও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। যদিও মাসের শেষ দিকে কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক শিলাবৃষ্টি দিল্লি ও তার আশপাশের অঞ্চলে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল, তবে সামগ্রিক গড় তাপমাত্রা ছিল উদ্বেগের কারণ। চিকিৎসকরা একে কেবল 'আবহাওয়া' নয়, বরং 'ক্লিনিক্যাল কনসার্ন' বা স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ইউরোপীয় এবং মার্কিন আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতির লক্ষণগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বা 'সুপার এল নিনো'তে পরিণত হতে পারে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়পড়তা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই উষ্ণায়ন ২০২৬ এবং ২০২৭ সালকে ইতিহাসের উষ্ণতম বছরে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আফ্রিকা মহাদেশে এপ্রিল মাসে আবহাওয়ার দুটি ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। পূর্ব আফ্রিকার ইথিওপিয়া, তানজানিয়া এবং কেনিয়ায় ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। বিপরীতে, মাদাগাস্কার এবং অ্যাঙ্গোলায় দেখা দিয়েছে তীব্র খরা। মাদাগাস্কারের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং গবাদি পশুর মৃত্যুতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত (AMOC) গত দুই দশক ধরে মন্থর হয়ে আসছে। এই প্রবাহের দুর্বলতা উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ের ধরনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। এটি দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপ এবং আমেরিকার উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখন আর কোনো ভবিষ্যতের হুমকি নয়, বরং বর্তমানের এক কঠিন বাস্তবতা। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এবং চরম তাপপ্রবাহের মতো ঘটনাগুলো আমাদের কৃষি, অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু অভিযোজন কৌশলে এখনই বৈশ্বিক ঐকমত্য না হলে সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই এপ্রিল।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]