ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বুধবার (৩ জুন) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে পরিচালিত “অপারেশন এপিক ফিউরি” এখন তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এর অংশ হিসেবে চলমান ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করা হয়েছে।
রুবিও দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে না। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক এখনো একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন, পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হন। এ ঘটনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের চতুর্থ মাসে এসে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে কাজ করে নৌপথে বাণিজ্য স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে কোনো পারমাণবিক চুক্তি হবে আগের চুক্তিগুলোর চেয়ে আরও কঠোর। তিনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নতুন কোনো সমঝোতা হলে তা অবশ্যই আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর