দেশের দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিং মল প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের বর্তমান নির্দেশনার কারণে খুচরা ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং লাখো ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
সোমবার (৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছেন। দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংকঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি আরও বাড়ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ চাকরিজীবী ও কর্মব্যস্ত মানুষ দিনের বেলায় কেনাকাটার সুযোগ পান না; তারা সাধারণত বিকেল বা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন। ফলে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হন।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দোকান ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে দেশের প্রায় ৭০ লাখ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা নির্ধারণ করা হয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১২ মে থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও ঈদের পর আবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর