বগুড়া শহরের বেলতলা এলাকায় ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল আলিম নামে এক শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত ফোর্সের সহায়তায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্ত আব্দুল আলিম শহরের মালগ্রাম বেলতলা জামে মসজিদের ইমাম এবং স্থানীয় 'জামিয়া ইসলামিয়া আল আকাবা' মাদ্রাসার শিক্ষক। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসারই তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর পরিবারের কেউ তাকে নিতে না আসায়, শিক্ষক আব্দুল আলিম তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সাথে নেন। অভিযোগ উঠেছে, পথিমধ্যে একটি নির্জন গলির ভেতরে নিয়ে শিশুটিকে প্রথম দফায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বললে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে বাধা দেয় এবং আলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনানুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর