চীনের তিব্বত নীতির প্রতিবাদ এবং স্বাধীন তিব্বতের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন লবগা রাংজেন নামে এক তিব্বতি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
নিউইয়র্ক পুলিশের বরাতে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তি নিজের শরীরে আগুন দিয়েছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, আত্মাহুতির সময় রাংজেনের হাতে স্বাধীন তিব্বতের পতাকা ছিল এবং তিনি তিব্বতি সন্ন্যাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ছিলেন। নিজের এই প্রতিবাদ তিনি ফেসবুকে লাইভস্ট্রিমও করেছিলেন বলে জানা গেছে।
রাংজেনের বন্ধু লবসাং পালজোর জানান, ৪২ বছর বয়সী রাংজেন প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন। পেশায় তিনি উবার চালক ছিলেন। পালজোর বলেন, ‘তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিব্বতে চীনের দখলদারিত্বের বিরোধিতা করতেন এবং সবসময় শান্তিপূর্ণ উপায়ে তিব্বতের স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন উৎসর্গ করেই সেই দাবি জানিয়ে গেলেন।’
তিব্বতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত-এর সভাপতি তেনচো গিয়াতসো জানান, রাংজেন চীনের ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ আইনের কড়া সমালোচক ছিলেন। তার অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে তিব্বতি ও উইঘুরসহ সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় ও অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। যদিও বেইজিংয়ের দাবি, আইনটির উদ্দেশ্য দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা।
তিব্বত ইস্যুতে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তিব্বতি অধিকারকর্মীরা। তবে তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এখনো রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে তিব্বতে সেনা পাঠিয়ে অঞ্চলটিকে নিজেদের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে চীন। ১৯৫৯ সালে তিব্বতের বিদ্রোহ দমনের পর আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিব্বতের স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর