শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (৪ জুলাই) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষিদ্ধ একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন কল্যাণাংশু নাহা। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সংক্রান্ত ভিডিও ও অডিও রেকর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান জানান, দাপ্তরিক ছুটির কারণে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষক কল্যাণাংশু নাহা বলেন, তিনি এখনো বরখাস্তের চিঠি হাতে পাননি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন না। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামীকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে কাজ শুরু করবে বলেও তিনি জানান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর