আপনি বা আপনার সন্তান যে কেক, রুটি কিংবা বিস্কুট খাচ্ছেন, সেগুলোর মান ও মেয়াদ কখনো যাচাই করেছেন? সামান্য অসতর্কতায় আপনার হাতেই হয়তো পৌঁছে যাচ্ছে মেয়াদহীন, এমনকি নষ্ট ও পচা খাদ্যপণ্য। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গাবতলী বাস টার্মিনালসংলগ্ন বিভিন্ন দোকানে এমন উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কেক, রুটি ও বিস্কুট অবাধে বিক্রি হচ্ছে। অথচ অনেক পণ্যের মোড়কে নেই উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা কিংবা অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য। কিছু পণ্যে পচা ও নষ্ট হওয়ার লক্ষণও দেখা গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
গাবতলী দেশের অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ ও শিশু এসব দোকান থেকে খাদ্যপণ্য কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্রেতাই পণ্যের মান বা মেয়াদ যাচাই না করেই তা কিনছেন। ফলে অজান্তেই তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে তারা নানা অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পণ্যের মান, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এক প্রতিনিধি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে চলে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও তা নিয়মিত না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আবারও একইভাবে নিম্নমানের ও মেয়াদহীন খাদ্যপণ্য বিক্রি করছেন। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মেয়াদহীন ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য জব্দ করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ক্রেতাদেরও খাদ্যপণ্য কেনার আগে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের সময় এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে কেনাকাটার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
এক্সক্লুসিভ এর সর্বশেষ খবর