ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। স্নাতক পর্যায়ের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি) ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) তার অনশনের ১৮তম দিন পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ওয়াংচুকের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, দীর্ঘ অনশনের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন চিকিৎসকরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে এনইইটি পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন বুধবার ২৬তম দিনে পৌঁছেছে।
সিজেপির প্রকাশিত মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, ওয়াংচুকের বর্তমান ওজন ৫৭ দশমিক ১৫ কেজি। গত ২৪ ঘণ্টায় তার ওজন কমেছে ৪০০ গ্রাম এবং অনশন শুরুর পর থেকে মোট ওজন কমেছে ৮ দশমিক ৯ কেজি।
চিকিৎসকদের তথ্যমতে, তার রক্তচাপ ১০৫/৭৬, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ। শরীরে পানির ভারসাম্য আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
অভিজিৎ ডিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে ওয়াংচুক নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেললেও সরকার এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। তার ভাষায়, সরকারের এই নীরবতা শুধু জবাবদিহির অভাবই নয়, বরং নিষ্ঠুরতারও পরিচায়ক।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন না এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন এখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।
ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৬ জুলাই একদিনের গণঅনশনের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। একই সঙ্গে ২০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ।
অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর কয়েকজন নেতাও পৃথক কর্মসূচিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনশনস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অভিনেত্রী জিনাত আমান সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং সরকারের প্রতি আলোচনায় বসার অনুরোধ করেন।
সিজেপির দাবি, ২০ জুলাইয়ের সংসদ পদযাত্রাকে ঘিরে তাদের মিসড কল প্রচারণায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর