শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের আমলাতলি গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে মো. আবুবক্কর (২৫) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি বিরল রোগে ভুগছেন। মাত্র ৮ বছর বয়সে তার একটি পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের আকার ও ওজন বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার পা ফুলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাই অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছেলের সুস্থতার আশায় মা বাবা জেলা ও বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবে কোনো চিকিৎসাতেই ফল পাওয়া যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার পায়ের আকার আরও বড় ও ভারী হয়ে ওঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, পূর্বে নেওয়া তার সব চিকিৎসা সঠিক হয়নি। ভারতীয় চিকিৎসকরা বলেছেন ভুল চিকিৎসার জন্য তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে।
এদিকে, আবুবক্করের বাবা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলেকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তার সুস্থতার জন্য কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। এসব অস্ত্রোপচারে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। যা তাদের পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
তিন বোনের একমাত্র ভাই আবুবক্কর নিজেও বিয়ে করেছেন। তার ঘরে ৯ মাস বয়সের একটি কন্যা সন্তান আছে। তাদের আবাদি কোন জমি নেই। বাবা সাইদুল কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। বর্তমানে আবুবক্কর বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তবে পায়ের অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মসংস্থান দুটিই তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আবার মাঝে মধ্যে অসুখ বেড়ে গেলে খুব কষ্ট হয় তার। এমতাবস্থায় অর্থের অভাবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহন করতে পারছেন না।
অসহায় বাবা মো. সাইদুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলেটা যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেত, তাহলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারত। আমাদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।” স্থানীয়দেরও প্রত্যাশা, সরকারি, বেসরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবানদের মানবিক সহযোগিতা পেলে আবুবক্করের চিকিৎসার পথ সুগম হবে এবং তিনি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর