আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একটি দাবি। জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প। এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম *নিউইয়র্ক পোস্ট*।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ফুটবল প্রশাসক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে মনোনয়নের বিষয়ে ট্রাম্প আগ্রহী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৫৬ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল সংগঠক ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে ফিফার উদ্বোধনী ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কারও প্রদান করেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশ্বাস ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশ ও জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বিশেষ সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। সে কারণেই জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁকে উপযুক্ত বলে মনে করছেন ট্রাম্প।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগামী ডিসেম্বরের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। এরপর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পেতে হবে। পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের যেকোনো একটি দেশের ভেটো এড়াতে হবে। পরে সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।
তবে ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না কিংবা ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের ধারণা, বর্তমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় ইনফান্তিনো একটি শক্তিশালী বিকল্প হতে পারেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রসি। তবে ব্যাচেলেট যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আপত্তির মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রসির প্রার্থিতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তি দেখা দিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি সত্যিই ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নেন, তবে জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনকে ঘিরে বিদ্যমান সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের যে আলোচনা চলছিল, তা নতুন মোড় নিতে পারে। ওই অঞ্চল থেকে সর্বশেষ ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পেরুর হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েয়ার জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
যদিও জাতিসংঘে ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের একটি অলিখিত রীতি রয়েছে, একাধিক সূত্রের মতে সেটি ইনফান্তিনোর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি থামিয়ে দিতে নাও পারে। ট্রাম্পের সমর্থনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সমর্থনও তিনি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ববিষয়ক বিশেষ দূত ইতালি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কূটনীতিক পাওলো জামপোলি "নিউইয়র্ক পোস্ট" কে বলেন, এমন অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী ধারণা কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষেই আসতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, জাতিসংঘ বা ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর