গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কয়েক ঘণ্টা আগে বরিশাল ছাড়েন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহ। পালানোর সময় তিনি গাড়িভর্তি প্রায় ১৬ কোটি টাকা সঙ্গে নিয়ে যান এবং পরে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ৪ আগস্ট গভীর রাতে খোকন আব্দুল্লাহ স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহকে নিয়ে বরিশাল ত্যাগ করেন। প্রথমে খুলনায় আত্মীয়ের বাসায় এবং পরে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে কয়েক মাস অবস্থান করেন। এরপর সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে আসাম ও কলকাতা হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। বর্তমানে তিনি টেক্সাসে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, বরিশাল ছাড়ার আগে কয়েক ঘণ্টার প্রস্তুতিতে বাসায় থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরা হয়। তার তৎকালীন এপিএস রুবেলের মাধ্যমে জানা যায়, সঙ্গে নেওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। পরে ওই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে ছেলে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের নামে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। তবে এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল ছাড়ার পর খুলনায় অবস্থানকালে বিসিসির কয়েকজন ঠিকাদারের প্রায় ২৭ কোটি টাকার বিলের চেকে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করেন খোকন আব্দুল্লাহ। এ কাজে তার তৎকালীন এপিএস রুবেল এবং সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল ও হিসাব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চেকে স্বাক্ষরের বিনিময়ে মোট বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খোকন আব্দুল্লাহ টেক্সাসে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও একটি পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগ দেখিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে খোকন আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানিয়েছেন, বর্তমানে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ নেই।
এদিকে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়েও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
অন্যান্য... এর সর্বশেষ খবর