জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবর্তনের পক্ষে গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সরকার তা পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একই নির্বাচনের একটি রায় গ্রহণ করা হবে, আরেকটি প্রত্যাখ্যান করা হবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি) এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি)। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির গণহত্যার রাজনীতি শুরু হয়। এরপর পিলখানা হত্যাকাণ্ড, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ—সবই দেশের ইতিহাসে ধারাবাহিক গণহত্যার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ সময় তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, দল নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ছাত্রদের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী নৈতিক সমর্থন দিয়েছিল। দল নিষিদ্ধ হওয়ার পরও জনগণ ও নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়।
জুলাইয়ের হতাহতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অভিযান পরিচালনা করায় নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। আহত ও পঙ্গুদেরও যথাযথভাবে খোঁজ নেওয়া হয়নি। শহীদ ও আহতদের পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পরও তাদের প্রতি প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করা হয়নি।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ওই রায়কে অপমান করার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল। সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে জনগণই গণতান্ত্রিক উপায়ে এর সমাধান করবে। জনগণের রায় অস্বীকার করে সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনদাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান জামায়াত আমির।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন।’ তাই ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের আওতায় আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়, তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি হলে এর প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন। নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান এবং সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সত্য তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর