নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবেশী প্রতারকের খপ্পরে একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া পিতৃহীন কিশোর শাহাদত হোসেন (১৪) অবশেষে দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ মোট ৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার সহায়তা পেয়েছে।
তার অসহায়ত্বের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কান্নার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের 'মানবতার ফেরিওয়ালা' বলে পরিচিত মামুন বিশ্বাস। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকা সহায়তা করেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ।
শুক্রবার বিকেলে মামুন বিশ্বাস নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শালাইনগর গ্রামে গিয়ে শাহাদত হোসেন ও তার মায়ের কাছে নতুন একটি ভ্যান, খাদ্যসামগ্রী, নতুন পোশাক ও নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পরিষদ চত্বরে শাহাদতের হাতে নতুন আরেকটি ভ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন শহরের সমাজসেবী রেন্টু মৃধা। সেই সঙ্গে আমির হোসেন নামে এক প্রবাসী তাকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন।
বড়াইগ্রাম ও বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শাহাদতের পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অসংখ্য দানশীল ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠান।
নতুন ভ্যান ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহাদত বলেন, "ভ্যানটি হারানোর পর মনে হয়েছিল আমার সব শেষ। মা আর দুই ভাই-বোনকে নিয়ে কিভাবে চলব, ঋণের কিস্তি কিভাবে দেব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবেন, তা কখনো কল্পনাও করিনি। যারা আমার এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাদের সবার ভালো করেন।"
শাহাদতের মা জোসনা খাতুন বলেন, "এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার মধ্যে ৮০ হাজার টাকায় ছেলেটাকে ভ্যান কিনে দিয়েছিলাম। ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। ছোট্ট বয়সেও সংসারের চাপে ছেলেটাকে এই কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাতে পারিনি। সবাই যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এভাবে পাশে থাকলে ছেলেটা পড়াশোনা করতে পারবে, আর ভ্যান চালাতে হবে না।" তিনি টাকা দিয়ে একটি দোকান করবেন বলেও জানান।
গত ২১ জুলাই বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর শহরে যাত্রীবেশী দুই প্রতারক কৌশলে শাহাদতের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। তার ভ্যান হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অনেক মানুষ তার পাশে দাঁড়ালে সব মিলিয়ে সহযোগিতার পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় নতুন ভ্যান পেয়ে আবারও জীবিকা নির্বাহের নতুন আশা ফিরে পেল কিশোর শাহাদতের পরিবার।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর