জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, "হুংকার না দিয়ে, সাহস থাকলে বাংলাদেশে আসেন। ডিসেম্বর মাসে নাকি তারা আসবেন। ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের জন্য খুব ভালো মাস। আপনারা আসেন, আমাদের আপত্তি নাই। যাহাই নভেম্বর, তাহাই ডিসেম্বর।"
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল শহরের পুরাতন বাসটার্মিনালের মুক্তমঞ্চে জেলা এনসিপির আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারোয়ার তুষার বলেন, "আওয়ামী লীগকে দিল্লির হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে কোনো এক বাহিনী ঘুমিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি হুঙ্কার দিচ্ছে।"
শেখ হাসিনার উদ্দেশে সারোয়ার তুষার বলেন, "আপনি যখন বাংলাদেশে ছিলেন, তখন আপনার চোখে চোখ রেখে, সিনা টানটান করে আমরা ছিলাম। গুলি করে আমাদের কোনোভাবে দমন করতে পারেননি। এখন কোনো এক অন্ধকার গুহায় আছেন, সেখান থেকে গায়েবি হুংকার দিয়ে আমাদের ভয় দেখাতে পারবেন না।"
তিনি আরও বলেন, "হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। এইসব গায়েবি হুংকার শুনলে আমাদের হাসি পায় না। আমাদের হাসি পায় না হাসিনার এইসব হুংকার শুনলে। আমরা আপনাকে বলে দিতে চাই, আপনার জন্য বাংলাদেশের ফাঁসির কাষ্ঠ অপেক্ষা করছে। আপনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে। অমুক মাসে আসব, তমুক মাসে আসব, এইসব হুংকার না দিয়ে, সাহস থাকলে বাংলাদেশে আসেন। আপনাকে এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে ঝুলানো হবে। এই ডিসেম্বর মাসে নাকি তারা আসবেন। ডিসেম্বর মাস আত্মসমর্পণের জন্য খুব ভালো মাস। ডিসেম্বর মাসে আপনারা আসেন আমাদের আপত্তি নাই। যাহাই নভেম্বর, তাহাই ডিসেম্বর। মূল বিষয় একটাই শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের ফাঁসি হতে হবে, সাজা হতে হবে। আমাদের কোনো হুমকি দিয়ে লাভ নেই। যে হেডকোয়ার্টারে আছেন সেটাই আপনাদের দল। আগে ছিলেন আওয়ামী লীগ, এখন হয়ে গেছেন দিল্লি লীগ, এখন হয়ে গেছেন ফেসবুক লীগ, এখন হয়ে গেছেন বোবা লীগ।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "আমরা চাল চুরি করি, গম চুরি করি, টিন চুরি করি, ভোট চুরি করি—এমনকি ঘুষও খাই। আবার ভোটের সময় আগের রাতে ভোটাররাও ভোট চুরি করে। ভোটের আগের দিন অনেক ভোটার রাত জেগে প্রার্থীদের জন্য অপেক্ষা করেন। রাতে যখন প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ির দরজায় টোকা দেন, তখন ভেতর থেকে বলা হয় আমরা দশজন। ভোট কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহামুদা সুলতানা রিমির পাশে থাকার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।"
নড়াইল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কৃষিবিদ মুন্সী জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মাহমুদা সুলতানা রিমির সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক। পথসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর