গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমকে সফল করতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পরিচালিত এই শুমারির জন্য মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষে ১২০ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে। এই ১৩১টি পদের বিপরীতে আজকের পরীক্ষায় মোট ৬১৪ জন শিক্ষিত তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য ৫৩০ জন এবং সুপারভাইজার পদের জন্য ৮৪ জন প্রার্থী তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন।
সরেজমিনে বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। যেহেতু এই শুমারির কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্যাবলেট বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে, তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের আইটি দক্ষতা ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের পারদর্শিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার হল পরিদর্শনকালে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম কামরুল ইসলাম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই শুমারির মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করছি। যারা স্মার্টফোন ব্যবহারে দক্ষ এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তারাই নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।”
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শুমারির জন্য মনোনীত স্বেচ্ছাসেবীরা উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত কার্যক্রমগুলো আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উক্ত নিয়োগ পরীক্ষায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুতই তথ্য সংগ্রহের মূল কাজে নামানো হবে বলে জানা গেছে। সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি নির্ভুল জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গঠনে এই নিয়োগপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর