পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের হাজার বিঘা ধানিজমি এখন পানির নিচে। বর্ষা শুরুতেই ঝুরঝুরি খালের পানি আটকে ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে খালের কিছু অংশ প্রভাবশালীদের দ্বারা জবরদখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজার, ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের সমস্ত পানি ঝুরঝুরি খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মানিকখালী খালে পড়ার কথা। কিন্তু খালের শেষ সীমানায় পাকা রাস্তা এবং অজিত বাছার ও সরজিৎ বাছারের বসতভিটা থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ধানক্ষেত, বসতভিটা, পুকুর, গাছপালা ও গ্রামীণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বিলের পাশে বসবাসকারী মুন্ডা সম্প্রদায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের একটি অংশ তারানীপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে মোঃ সমসের, মৃত অমেদ আলী শেখের ছেলে মোঃ মজিদ কারিগর এবং সোরা গ্রামের আলহাজ এশার আলী মোল্লার ছেলে মোঃ আশরাফ আলী মোল্যাসহ কয়েকজন জবরদখল করে মৎস্য ঘের করেছেন। এছাড়া ভেটখালী-তারানীপুর পাঞ্জেগানা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় কালভার্ট নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রমজাননগরের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঝুরঝুরি খাল জবরদখল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ বছর ধানের বীজও বপন করতে পারিনি। এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় দারিদ্র্য আরও বাড়বে।
আরেক কৃষক আবু সাঈদ বলেন, আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি, দেখার কেউ নেই। অবিলম্বে খাল জবরদখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।
মুন্ডা সম্প্রদায়ের প্রিয়তোষ মুন্ডা বলেন, বর্ষায় আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। শিশুদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকি।
এ বিষয়ে জবরদখলকারী মোঃ সমসের বলেন, সরকার খাল খনন করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরাও চাই পানি নিষ্কাশন হোক।
রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আল মামুন বলেন, আগে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খালটি আংশিক খনন করা হয়েছিল। কিন্তু খালের সীমানায় মেইন রাস্তা ও বসতভিটা থাকায় মানিকখালী খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়রা দ্রুত ঝুরঝুরি খাল পুনঃখনন, জবরদখল উচ্ছেদ এবং রাস্তার নিচে কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর