শায়খ আহমাদুল্লাহর সম্পূর্ণ ফেসবুক পোস্টের ওপর ভিত্তি করে বস্তুনিষ্ঠ ও প্রফেশনাল একটি প্রতিবেদন নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো:
কওমি মাদরাসার মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ৬ প্রস্তাব
সাম্প্রতিক সময়ে কওমি মাদরাসা কেন্দ্রিক নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নেতিবাচক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মুরব্বিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
কওমি মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে এই দ্বীনি শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি, ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি ৬ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন।
কওমি মাদরাসার ঐতিহাসিক অবদান ও বাস্তব সংকট
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে কওমি মাদরাসার ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বলেন:
সামাজিক নিরাপত্তা বলয়: রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান ছাড়াই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে ‘লিল্লাহ বোর্ডিং’ ও এতিমখানার মাধ্যমে লাখ লাখ এতিম ও দুস্থ শিশুর দায়িত্ব পালন করছে কওমি মাদরাসা, যা রাষ্ট্রকে বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা থেকে মুক্ত রাখছে।
নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র: দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক মনন গঠনে এবং আদর্শ নাগরিক তৈরিতে এটি অনন্য ভূমিকা রাখছে।
তবে ইতিবাচক অবদানের পাশাপাশি বিদ্যমান বাস্তব সংকটগুলো স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। মিডিয়ার অতিরঞ্জন বা ষড়যন্ত্রের অজুহাতে কতিপয় নামধারী শিক্ষকের অপকর্মকে ধামাচাপা না দিয়ে কঠোর আত্মসংশোধনের মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে।
ভাবমূর্তি রক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ৬ প্রস্তাব
দ্বীনের এই সুরক্ষাকবচগুলোকে বাঁচাতে আল-হাইআতুল উলয়া ও বেফাকসহ শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সমীপে তিনি নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো পেশ করেন:
১. কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি ও 'ব্ল্যাকলিস্ট' গঠন
২. গোপনীয় হটলাইন ও 'অভিযোগ গ্রহণ সেল'
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার
৪. শিক্ষক ও স্টাফদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন
৫. নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক নীতি
৬. অনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানকে নিয়মনীতির আওতায় আনা
শায়খ আহমাদুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, আল-হাইআতুল উলয়া এবং বেফাকসহ জাতীয় বোর্ডগুলো সচেতনতা বৃদ্ধি, নিবন্ধন শর্ত কঠোরকরণ এবং শক্তিশালী মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, "পবিত্র এই অঙ্গন থেকে মানুষের ভরসা হারিয়ে গেলে মুসলিমদের আত্মিক আশ্রয়ের শেষ জায়গাটুকুও বিলীন হয়ে যাবে। তাই আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর আত্মসংশোধনের মাধ্যমে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর