চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে পুলিশের যৌথ অভিযানে যশোরের ঝিকরগাছা থেকে আটক করা হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ধুমধুমপুর এলাকার চেকপোস্ট থেকে তাকেসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক চাঁদাবাজি, হামলা ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে যশোরের ঝিকরগাছায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সফল অভিযান পরিচালিত হয় এবং চলমান মামলার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের কুখ্যাত 'সজ্জাদ গ্রুপে' যোগ দেন। এরপর হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি পিস্তল হাতে তার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। তদন্তকারীদের মতে, তিনি ধীরে ধীরে ওই সন্ত্রাসী চক্রের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতৃত্বে পরিণত হন। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করে দুবাই থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দিলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা বা গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম প্রধানত সামনে আসে। ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এর দুই দিন পর চন্দনপুরা এক্সেস রোডে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি করে এবং নগদ টাকা ও বিভিন্ন সামগ্রী সহ ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ওই ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে আটক করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের প্রধান দুই সহযোগী আসিফ ও আরিফকে আটক করে নগর পুলিশ (সিএমপি)। অভিযানে আসিফের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ২ রাউন্ড গুলি এবং আরিফের কাছ থেকে ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেই যশোরে ডেভিড ইমনের চূড়ান্ত অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ পুলিশ।
সিএমপি'র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ডেভিড ইমনসহ এই সন্ত্রাসী চক্রকে নির্মূল করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের পুরো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অবৈধ অস্ত্রের উৎস, অর্থের যোগানদাতা ও অন্যান্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর