ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ওয়েলসের পর এবার ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তার প্রার্থিতাকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কের পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইংল্যান্ডের আস্থা কমে গেছে। ফলে আগামী নির্বাচনে তাকে আর সমর্থন করবে না দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সম্প্রতি ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সেই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেন ইনফান্তিনো। প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থা ও সদস্য দেশের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি স্থগিত করা হলে তার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
এর আগে ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ওয়েলস। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলস (এফএডব্লিউ) এক বিবৃতিতে জানায়, সুশাসনের ঘাটতি, দুর্বল নেতৃত্ব, অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগে ব্যর্থতা এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তারা ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে।
২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার সভাপতির দায়িত্ব নেন ইনফান্তিনো। এরপর ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্যও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন কনকাকাফসহ বেশ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ইতোমধ্যেই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে ২০২৭ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হতে পারে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর