• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ সেকেন্ড পূর্বে
আরিফ জাওয়াদ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩০ বিকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্বরে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার উদ্বোধনী ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে উপাচার্যের সভাকক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এক চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। উপাচার্য শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরাম-এর পিতা শফিউল আলম, শহিদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহিদ মীর মুগ্ধর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ ইয়ামিনের পিতা মহিউদ্দিন এবং শহিদ মো. আবু সাঈদ মিয়ার ভাই আবু হোসেন। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সচিব বায়েজিদ বোস্তামি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান বক্তব্য রাখেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি জুলাইয়ের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে, দুঃশাসন ও বৈষম্যের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ, ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন, আলোকচিত্র ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ, জুলাই যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ধারাবাহিকতার ফলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর বয়ান সৃষ্টির নিন্দা জানান এবং আন্দোলনে মানবতাবিরোধী ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো বাংলাদেশে আর কখনো বৈষম্য, দুঃশাসন কিংবা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাগলে বাংলাদেশ জাগে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরাম-এর পিতা শফিউল আলম, শহিদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহিদ মীর মুগ্ধর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ ইয়ামিনের পিতা মহিউদ্দিন এবং শহিদ মো. আবু সাঈদ মিয়ার ভাই আবু হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]