• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৪ মিনিট পূর্বে
মোঃ শাকিল শেখ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (সাভার ও ধামরাই)
প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫০ দুপুর

আশুলিয়ায় ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, দুর্ভোগে শ্রমিক-পথচারী

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কের ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে জিরাবো পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান থেকে দৈনিক চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের নামে অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে পথচারী, পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে সড়কজুড়ে তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে ফান ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ফুটপাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের ম্যানেজার জাকিরের নেতৃত্বে প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া নজরুল মৃধা পল্লী বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ এনে দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ফুটপাতে ব্যবসা করা একাধিক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দোকান বসানোর জন্য প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রতিদিন আরও ৩০ থেকে ৫০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে দোকান বসাতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা। দোকানদারদের অভিযোগ, প্রতিটি দোকান থেকে মসজিদের নামে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করা হয়। তবে এ অর্থের বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। ফলে সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, মসজিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হলে রসিদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ রসিদ চাইলে তাকে রসিদ দেওয়া হবে। রসিদ ছাড়া অর্থ সংগ্রহের বিষয়টিও তারা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত নজরুল মৃধার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহাসড়ক ব্যবহারকারী পোশাক শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতে দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হয়। ছুটির সময় রাস্তার দুই পাশে দোকান বসে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফিরতে পারেন না তারা। তাদের দাবি, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রেখে দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হোক।

যানবাহন চালকরাও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে প্রায় সারা বছরই যানজট লেগে থাকে। এর মধ্যে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না এবং যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ম্যানেজার জাকিরের নেতৃত্বে মার্কেটের সামনের ফুটপাতে একাধিক দোকান বসানো হয়েছে। তার নেতৃত্বেই প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ম্যানেজার জাকির বলেন, "কোনো দোকান থেকে চাঁদা তোলা হয় না। তবে আমাদের মার্কেটের জায়গায় মালামাল রাখার কারণে প্রতিটি দোকান থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়।"

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা সালাম ভূইয়া বলেন, "আমার ভাই আব্দুস সাত্তার ভূইয়া আগে প্রতিটি দোকান থেকে মসজিদের হুজুরের বেতনের জন্য ১৫০ টাকা করে সংগ্রহ করতেন। বর্তমানে তিনি প্রতিটি দোকান থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা করে সংগ্রহ করেন। গত দুই মাসে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এই অর্থ মসজিদের প্রয়োজনেই তোলা হয়। ১০ থেকে ২০ টাকার জন্য সবার কাছে আলাদা করে রসিদ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে কেউ রসিদ চাইলে তাকে রসিদ দেওয়া হবে।"

স্থানীয়দের মতে, আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে শিল্পাঞ্চলের লাখো শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান লস্কর বলেন, "কেউ যদি মূল বিদ্যুৎ লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ দেয় এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ কাজে পল্লী বিদ্যুতের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "সড়কের দুই পাশের সকল অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে। যারা অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

রোহান/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]