রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এর পর থেকেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গ্রহণযোগ্যতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনজন—বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, অরাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবর্তে দলের অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনাই নয়, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। এমন একজন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, যিনি অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর