দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য মূল বেতন হিসেবে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীদের বেতনও প্রায় একই পর্যায়ের। তবে নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়। বাস্তবতার তুলনায় বর্তমান বেতন-ভাতা কাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য বর্তমান বেতনে দায়িত্ব পালন কঠিন। এতে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জনপ্রতিনিধিদের যাতায়াতের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। নুর বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে এমপিদের প্রায়ই নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু অনেক এলাকার সড়কব্যবস্থা এখনও দুর্বল। ছোট গাড়িতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক এমপির নেই।
তিনি প্রস্তাব করেন, একজন সংসদ সদস্য দায়িত্বে থাকাকালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে সেটি সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদেরও এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
এ সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রত্যেক এমপির জন্য একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের আশাও ব্যক্ত করেন নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে সেবার মান উন্নত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই জনসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, হয়রানি কমাতে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর