জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত এক কনসার্টে গান পরিবেশনের সময় দর্শকসারি থেকে ছোড়া পানির বোতলের আঘাতে আহত হন আর্ক ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হাসান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের জন্ম দিলেও বিষয়টি নিয়ে শান্ত ও সংযত অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ না করে বরং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিভঙ্গির কথাই বলেছেন এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের কোনো শিল্পীকেই যেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কনসার্টে পারফর্ম করে আর্ক ব্যান্ড। শুক্রবার সকালে ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ঘটনার বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান হাসান।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আগে কখনো হননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমার কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত। বহু বছর ধরে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে আছি। এই দীর্ঘ সময়ে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মঞ্চে একজন শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারা হতে পারে—এমন কিছু কখনো দেখিনি বা কল্পনাও করিনি। তারপরও আমি বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে চাই। আমি বিশ্বাস করতে চাই, যিনি এমনটি করেছেন, তিনি হয়তো না বুঝেই করেছেন।”
নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ক্ষমা করলেও ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিল্পী যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন হাসান। তাঁর ভাষায়, শিল্পী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নন; তিনি পুরো দেশের মানুষের।
তিনি বলেন, “আমার একটাই অনুরোধ, ভবিষ্যতে আমার দেশের কোনো শিল্পীকেই যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। কনসার্টে আসা মানুষের মনে রাখা উচিত, শিল্পীরা এই দেশের, শিল্পীরা সবার। তাঁরা মানুষের জন্যই গান করেন। বিনিময়ে তাঁরা শুধু মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রত্যাশা করেন। কোনো শিল্পীকে এভাবে অসম্মান করা বা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করা কখনোই উচিত নয়।”
একই সঙ্গে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়নের প্রবণতা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানান আর্কের এই ভোকালিস্ট।
এ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, “আমাদের দেশে অনেক সময় শিল্পীদের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়, যা মোটেও ঠিক নয়। একজন শিল্পী পাঁচ বা দশ বছরের জন্য শিল্পী নন, তিনি আজীবনের জন্যই শিল্পী। বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক নানা আয়োজনে শিল্পীদের গান গাইতে হয়। তাই বলে তাঁদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। শিল্পীরা মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকেন। তাই তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর