• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:১২ রাত

রাতের খাবারে কী রাখবেন? ডিনারে গুরুত্ব দিন পুষ্টির ভারসাম্যে

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ জীবন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবারই থাকে। তবে শুধু বেশি বছর বেঁচে থাকাই নয়, সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে বেঁচে থাকাটাই আসল বিষয়। আর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাতের খাবার নিয়ে সচেতন থাকা দরকার। কারণ দিনের শেষ খাবারটি যদি অতিরিক্ত ভারী, তেল-মশলাদার বা অনিয়মিত সময়ে খাওয়া হয়, তাহলে অনেকের ক্ষেত্রে অম্বল, গ্যাস, পেট ভার কিংবা ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, ডিনারে নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবার খেলেই আয়ু বেড়ে যাবে—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। বরং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার জন্য সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে রাতের খাবার হওয়া উচিত পরিমিত, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও পুষ্টির ভারসাম্যপূর্ণ।

রাতের খাবারে সবজি রাখা ভালো অভ্যাস। পালং শাক, লাউ, ঝিঙে, পটল, ঢেঁড়স, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজরসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি খাবারে যোগ করা যায়। সবজিতে থাকে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান। ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে সবজির পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে অতিরিক্ত তেল, মাখন বা লবণ ব্যবহার না করাই ভালো। ভাজা বা অতিরিক্ত মশলাদার সবজির বদলে হালকা রান্না করা সবজি রাতের খাবারে তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

রাতের খাবারে শুধু ভাত, রুটি বা অন্য কোনো শর্করাজাতীয় খাবার রাখলে খাবারের পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই খাবারে প্রোটিনের উৎস রাখা জরুরি। ডাল, মাছ, ডিম, দই, পনির বা সয়াবিনের মতো খাবার পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া যেতে পারে। প্রোটিন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সহায়ক।

তবে কার কতটা প্রোটিন প্রয়োজন, তা বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

রাতে ভাতের বদলে রুটি খাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। আটার রুটি, সবজি ও ডাল বা অন্য কোনো প্রোটিনের উৎস দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাতের খাবার তৈরি করা যায়।

তবে রুটি খেলেই ওজন কমবে আর ভাত খেলেই ওজন বাড়বে—এমন ধারণা ঠিক নয়। খাবারের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ মোট পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং সারাদিনের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস। যে শর্করাজাতীয় খাবারই খান না কেন, পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

শসা, টমেটো, গাজর, বিটসহ বিভিন্ন সবজি দিয়ে সহজেই স্যালাদ তৈরি করা যায়। এতে খাবারে ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যোগ হয়।
তবে সবার হজমক্ষমতা এক রকম নয়। কাঁচা সবজি খেলে যাদের পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি হয়, তারা নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী খাবেন। প্রয়োজনে কাঁচা সবজির পরিবর্তে হালকা রান্না করা সবজি বেছে নেওয়া যেতে পারে।

রাতের খাবারে নিয়মিত বিরিয়ানি, পিৎজা, বার্গার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি কিংবা খুব ঝাল-মশলাদার খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়। এসব খাবারে অনেক সময় ক্যালরি, লবণ, চর্বি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে।

এ ধরনের ভারী খাবার বিশেষ করে রাতে খেলে অনেকের অম্বল, বুকজ্বালা, পেট ভার বা ঘুমের অস্বস্তি হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসও নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।

মনে রাখবেন খাবারের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাতের খাবার প্রতিদিন খুব দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেড়ে যেতে পারে। তাই রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে পর্যাপ্ত সময় রাখার চেষ্টা করা উচিত। ব্যক্তিভেদে সময়ের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা উপকারী নাও হতে পারে। রাতের খাবারে পেট একেবারে ভর্তি করে খাওয়ার বদলে পরিমিত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। সহজভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্লেটে সবজি, প্রোটিনের উৎস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শস্যজাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে। এতে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ থাকে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। দীর্ঘায়ুর জন্য শুধু ডিনার নয়, পুরো জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। তাই, একটি নির্দিষ্ট খাবার বা রাতের খাবারের কোনো বিশেষ মেনুকে ‘দীর্ঘায়ুর রহস্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার পেছনে সামগ্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংযম বা পরিহারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে রাতের খাবার কেমন হতে পারে?

একটি সাধারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিনারে থাকতে পারে— পরিমাণমতো ভাত বা আটার রুটি, এক বা একাধিক ধরনের সবজি, ডাল বা মাছ/ডিমের মতো প্রোটিনের উৎস, সহনশীলতা অনুযায়ী স্যালাদ, প্রয়োজন অনুযায়ী দই বা অন্য পুষ্টিকর খাবার ইত্যাদি।

তবে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হজমের সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

দীর্ঘায়ু পাওয়ার জন্য রাতের খাবারে কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ খোঁজার চেয়ে প্রতিদিনের খাবারে ভারসাম্য আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত শর্করা, পর্যাপ্ত প্রোটিন, বেশি সবজি, প্রয়োজনীয় ফাইবার এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার—এই নীতিগুলো মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললেই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

অর্থাৎ, দীর্ঘায়ুর রহস্য কোনো একটি খাবারে নয়; বরং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ধারাবাহিকতায়।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]