বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থগিত সিরিজটি সেপ্টেম্বরে মাঠে গড়ানো নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে গত এক মাস ধরে সিরিজ আয়োজন নিয়ে ই-মেইলে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেত মেলেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হলেও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ছে ক্রিকেটেও। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ক্রিকেটীয় কূটনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে সরকারের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ আয়োজনের বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিলেও ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে।
বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা এবং পরবর্তী বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি। এসব ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কেও অস্বস্তি তৈরি হয়।
তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো তিক্ততা ভুলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডও স্থগিত সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে সেই উদ্যোগ আবারও বাধার মুখে পড়েছে।
বুধবার নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন এবং এর পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডও বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বিসিবির একাধিক সূত্রের মতে, সিরিজটি আরও এক দফা স্থগিত হতে পারে। এবার অন্তত ছয় মাসের জন্য সিরিজ পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী বছরের শুরুর দিকে সিরিজটি আয়োজনের চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
মূলত ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেটি স্থগিত করা হয়। এবার নির্ধারিত সময়ে আয়োজন সম্ভব না হলে সিরিজটি দ্বিতীয়বারের মতো পিছিয়ে যাবে।
বিসিবির বছরের শুরুতে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট ভারত বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার সূচি রয়েছে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ঢাকায়—১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর চট্টগ্রামে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশে আসবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর