অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি। তবে বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে এরই মধ্যে উঠে এসেছে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সম্ভাব্য বেশ কিছু পরিবর্তনের তথ্য। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অ্যাপলের বার্ষিক লঞ্চ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবারের অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ আইফোন ১৮, আইফোন ১৮ই এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের আইফোন এয়ার ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রোতে যেসব পরিবর্তন আসতে পারে
১. বড় ব্যাটারি
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে প্রায় ১০ শতাংশ বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। এতে একবার চার্জে ফোনটি আগের চেয়ে বেশি সময় ব্যবহার করা যাবে। তবে বড় ব্যাটারির কারণে ডিভাইসটি কিছুটা মোটা ও ভারী হতে পারে।
২. নতুন A20 Pro চিপ
প্রো মডেলগুলোতে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন A20 Pro চিপ ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি কম বিদ্যুৎ খরচ এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
৩. ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা
আইফোন ১৮ প্রোর ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরায় ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী লেন্সে প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ফলে বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলার মান উন্নত হতে পারে।
৪. উন্নত টেলিফটো ক্যামেরা
টেলিফটো ক্যামেরায় বড় অ্যাপারচার যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে অ্যাপলের। এতে জুম করে ছবি তোলার পাশাপাশি কম আলোতেও আরও ভালো ছবি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫. ছোট হতে পারে ডায়নামিক আইল্যান্ড
ফেস আইডির কিছু প্রযুক্তি ডিসপ্লের নিচে স্থানান্তর করা হলে ডায়নামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় ছোট হতে পারে। এতে স্ক্রিনে ব্যবহারযোগ্য জায়গাও কিছুটা বাড়বে।
৬. আরও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ডিসপ্লে
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ৬.৩ ও ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে রাখা হতে পারে। তবে নতুন LTPO+ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ডিসপ্লে আরও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে পারে। এর ফলে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়তে পারে।
৭. নতুন C2 মডেম
অ্যাপলের নিজস্ব C2 মডেম ব্যবহারের মাধ্যমে আরও দ্রুত ৫জি সংযোগ, উন্নত সিগন্যাল এবং কম বিদ্যুৎ খরচের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি স্যাটেলাইটভিত্তিক ৫জি প্রযুক্তি নিয়েও অ্যাপল কাজ করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
৮. নতুন N2 ওয়্যারলেস চিপ
নতুন N2 ওয়্যারলেস চিপ যুক্ত হলে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও এয়ারড্রপের মতো ওয়্যারলেস সংযোগ আরও উন্নত হতে পারে।
৯. নতুন রঙে আসতে পারে আইফোন ১৮ প্রো
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ডার্ক চেরি, লাইট ব্লু, ডার্ক গ্রে ও সিলভার—এমন কয়েকটি নতুন রঙ যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। ম্যাগসেফ অংশের নকশাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
১০. ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটনে পরিবর্তন
ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটনে থাকা টাচ ও হ্যাপটিক ফিডব্যাকের পরিবর্তে শুধু চাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আইফোন ১৮ প্রোর প্রাথমিক দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ রুপি হতে পারে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
তবে বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে ফোনটির দাম প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মনে রাখতে হবে, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের ফিচার, দাম কিংবা উন্মোচনের তারিখ—কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি অ্যাপল। ফলে এসব তথ্যকে সম্ভাব্য ফিচার ও বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে প্রকাশিত গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর