জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে ফের সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ উপস্থাপন করা। প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।
এর আগে ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত ওই কমিটি ‘সচিব কমিটি’ হিসেবে পরিচিত। কমিটিটি সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
আর্থিক চাপের মধ্যেও এগোচ্ছে পে স্কেলের কাজ
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ব্যয় আরও বেড়েছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও এলপিজি আমদানি করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেলেও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে।
অন্যদিকে দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না থাকায় অর্থনীতিতে চাপ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এসব আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নবম পে স্কেলের কাজ এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর দ্রুতই প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে এবং এর প্রজ্ঞাপন জারিতেও বেশি সময় লাগবে না।
অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে এখনো নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর