কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তাঁকে কখনো কখনো উচ্চ মহলে লজ্জায় পড়তে হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ভৈরব বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে বিভিন্ন সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক দিনে গ্রামের একটি বাজারের নাম নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন খুন হয়েছেন। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর ভাড়া নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলস্টেশনে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া, মারামারি ও সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিনকে হত্যা করা হয়েছে। গত দুই মাসে ভৈরবে এসব ঘটনা ঘটেছে।’
এসব সংঘর্ষের কারণে সড়ক ও রেলপথ তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এসব ঘটনায় ভৈরবের বদনাম হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ২০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ভৈরব পৌরসভাসহ তিনি নিজেও সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
তবে শুধু সিসি ক্যামেরা স্থাপন করলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষকেও সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শরীফুল আলম বলেন, ‘ভৈরবের আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উচ্চ মহলে আমার লজ্জা পেতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বারবার ঘটলে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকার দেশকে ধ্বংস করে গেছে। দেশে এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে দুই বছর সময় দিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকার সংসদ সদস্য কোনো কাজ না করেই উন্নয়নের প্রচার করেছেন।
শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী নই, কাজে বিশ্বাসী।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) নজমুস সাকিব, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠান শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, স্কুলব্যাগ ও স্প্রে মেশিন বিতরণ করেন।
পরে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলায় কয়েকটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর