দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে চাপ। বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ডেঙ্গু কর্নার।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৭ জন। এ সময় ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।
বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, এ বছর ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকার গুরুতর রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসছেন। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালটির ছয়টি পৃথক মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আগস্টের শুরু থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মাহবুব হাসান বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে একটি আইসোলেশন কর্নার চালু করা হয়েছে।
ফেনীতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা কর্নার থাকলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে অন্যান্য মেডিসিন রোগীদের সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
তবে ফেনী সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানিয়েছেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট মজুত রয়েছে।
এদিকে ফেনী পৌর প্রশাসক মো. দিদারুল আলম বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর