একটি বিদ্যালয়কে ঘিরেই জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পার করেছেন গাজী মো: সহিদুল আলম। একসময় ছিলেন এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। সময়ের পরিক্রমায় সেই বিদ্যালয়েরই শিক্ষক হয়েছেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসর নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে। এবার সেই প্রিয় বিদ্যালয়েরই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গাজী মো: সহিদুল আলম। ঘটনাটি শুধু একটি কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার বিষয় নয়; বরং নিজের শৈশব, কর্মজীবন ও বর্তমানকে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার এক অনন্য গল্প।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১ নম্বর লাউকাঠি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ৩ নম্বর কিসমত মৌকরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গাজী মো: সহিদুল আলম। ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলার অন্যতম স্বনামধন্য প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ৮৩ বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। আর এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে গাজী মো: সহিদুল আলমের সম্পর্ক যেন অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। শৈশবে যে বিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু, কর্মজীবনে সেই বিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শিক্ষকতা জীবনের একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর এবার আবারও সেই বিদ্যালয়েই ফিরেছেন নতুন পরিচয়ে—ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে।
সোমবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ে ১২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে গাজী মো: সহিদুল আলম, সহ-সভাপতি হিসেবে জি এম দুলাল এবং সদস্য সচিব হিসেবে মোহাম্মদ ইউসুফ আলী হাওলাদারের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—মোহাম্মদ কাইয়ুম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মোসা: এমিলি বেগম, সীমা আক্তার, মাসুম গাজী, মো: সাদ্দাম, মোসা: সূর্য ভানু, জেসমিন আক্তার ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। কমিটি ঘোষণার সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত সভাপতি গাজী মো: সহিদুল আলম বলেন, "আজকের দিনটি আমার জন্য খুবই গর্বের একটি দিন। আমি আল্লাহতালার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম, তারপরে শিক্ষক হয়েছি, এখন স্কুলের সভাপতি। এর থেকে বেশি পাওয়ার আমার জীবনে আর কিছু হতে পারে না।" তিনি আরও বলেন, "আমি যতদিন দায়িত্বে আছি, স্কুলের উন্নয়নের জন্য যথাসম্ভব কাজ করব। শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য যা যা প্রয়োজন, আমি তাই করার চেষ্টা করব।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিজের ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাজী মো: সহিদুল আলম বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। একটি বিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে পথচলা শুরু, সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর এবং শেষ পর্যন্ত সেই বিদ্যালয়েরই সভাপতি হওয়া—গাজী মো: সহিদুল আলমের এই গল্প শুধু একটি দায়িত্ব পাওয়ার গল্প নয়; এটি একজন মানুষের সঙ্গে তাঁর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আজীবন সম্পর্কের গল্প।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর