সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন পে-স্কেলে মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
এতদিন নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন কাঠামোয় সব গ্রেডের কর্মচারীকে এ সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।
কম পেনশনে বাড়বে বেশি
নতুন বেতন কাঠামোয় পুরোনো পেনশনারদের জন্যও সুবিধা রাখা হয়েছে। ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) ব্যবস্থা এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর পরিবর্তে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নতুন হারে পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন হলে ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন হলে ৫৫ শতাংশ বাড়বে।
ফলে তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া পুরোনো পেনশনাররা বেশি সুবিধা পাবেন।
২০তম গ্রেডে বেতন ২০ হাজার টাকা
নবম জাতীয় বেতনস্কেলেও সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
তবে পুরো বেতন একসঙ্গে কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ৩ হাজার টাকা ভাতা
নতুন পে-স্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অতিরিক্ত পরিচর্যা ও পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের তুলনামূলক কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর