নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়বে। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের তুলনায় আগে থেকেই চাকরিতে থাকা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হিসাব হবে কিছুটা জটিল। তাদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট ও গ্রেডের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে। ফলে একই গ্রেডে কর্মরত হলেও সব চাকরিজীবীর বেতন এক রকম নাও হতে পারে।
নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডের জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের পুরো সুবিধা পাবেন। তবে নতুন হারে সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নবম গ্রেডে বেতন কত বাড়বে
বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেলে নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে নবম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ হবে।
তবে বর্তমানে কর্মরত পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সরাসরি ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ হবে না। তাদের বর্তমান মূল বেতন ও অর্জিত ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে থাকা কোনো কর্মকর্তার মূল বেতন একই গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার চেয়ে বেশি হতে পারে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী নবম গ্রেডে মূল বেতনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসবসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের নতুন একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা হলে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে আরও ২২ হাজার টাকা যোগ হতে পারে। চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তার মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরই সুনির্দিষ্ট বেতন-ভাতার হিসাব জানা যাবে।
নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সবার বেতন একই পরিমাণে বাড়বে না। কারণ একই গ্রেডে কর্মরত হলেও চাকরির মেয়াদ ও ইনক্রিমেন্টের কারণে তাদের বর্তমান মূল বেতন ভিন্ন হতে পারে।
এ ছাড়া নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো চাকরিজীবীদের জন্য চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে। ফলে নতুন মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সুবিধা বাতিলের প্রভাবও মোট বেতন-ভাতা হিসাবের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে।
সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামোয় স্বল্প আয়ের ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের দ্রুত বেতন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পুরোনো কোনো চাকরিজীবী নতুন কাঠামোয় ঠিক কত টাকা বেশি পাবেন, তা নির্ভর করবে তার গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং নতুন বেতন নির্ধারণের চূড়ান্ত পদ্ধতির ওপর।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর