হিমালয় কন্যা নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
নেপাল কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বত অংশেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবরুদ্ধ মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ও জিপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে।
চীন সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাসুয়া জেলার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের মুখের কাদা সরাতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও টানেলের ভেতরে কিছু মানুষ জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা।
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে প্রতিদিন সকালে ঘটনাস্থলে জড়ো হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা বলেন, প্রতিদিন আমি বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায় এখানে আসি। কিন্তু প্রতিদিন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আমার আশা কমে যায়।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও কাদাধসের কারণে পুরো এলাকায় অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। গৃহহীন হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন স্কুল ভবন ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে এসব ঘরবাড়ি আগের স্থানে না বানিয়ে নিরাপদ এলাকায় নতুন জনবসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে নেপাল সরকার।
সূত্র: আল জাজিরা
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর