পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গত তিন দিনে চালানো একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৪৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত ও সিবি জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে ভারতের মদদপুষ্ট হিসেবে বর্ণিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ এবং ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সদস্যরা রয়েছে।
সেনাবাহিনী জানায়, শুক্রবার মাস্তুং জেলায় একটি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলি হয়। এতে ছয়জন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় পৃথক অভিযানে চারটি কথিত জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে গোলাগুলিতে ২৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এ ছাড়া কালাত জেলায় একটি কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুজন এবং সিবি জেলার ভাগ এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে আরও দুজনকে হত্যার দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
আইএসপিআরের ভাষ্য, গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অভিযানে ‘ভারতের মদদপুষ্ট’ এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর ৪৮ সদস্যকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর কালাত জেলায় চালানো আরেক অভিযানে ১২ জন নিহত হয়েছিল বলে জানিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ওই অভিযানও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যদের উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে এসব অভিযানের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তিনি বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি বছর বেলুচিস্তানে ১ হাজার ১৮৮ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবিও তুলে ধরেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, এসব অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভাগে পুলিশ স্টেশনসহ তিন স্থাপনায় হামলার চেষ্টা
অন্যদিকে, বেলুচিস্তান সরকার জানিয়েছে, ভাগ এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশন, একটি ব্যাংক ও সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে সমন্বিত হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহযোগী শহীদ রিন্দের দাবি, প্রায় ৪০ জন জঙ্গি রকেট লঞ্চার, মেশিনগান, স্নাইপার রাইফেল ও হ্যান্ড গ্রেনেডসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
তার ভাষ্য, হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিতে কিংবা সেখান থেকে অস্ত্র লুট করতে পারেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির মুখে হামলাকারীরা পিছু হটে।
রিন্দ জানান, পুলিশ স্টেশনের সুরক্ষাব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হামলাকারীরা ন্যাশনাল ব্যাংক থেকেও অর্থ লুট করতে পারেনি। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেখানে পুঁতে রাখা একটি আইইডি নিষ্ক্রিয় করেন।
হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও তিন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বেলুচিস্তান সরকার। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শহীদ রিন্দ বলেন, ভাগের মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছে।
সূত্র: পাকিস্তান টুডে
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর