জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এমপির বিশেষ বরাদ্দের কাবিটা কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের একটি প্রকল্পের অর্থে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির একটি প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর ধানাটা-জামিরা সড়কে প্যালাসাইটিংসহ সংস্কারের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ না করে সড়কের মাঝামাঝি স্থান থেকে সামিউল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে যাতায়াতের জন্য প্যালাসাইটিং দিয়ে খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বলারদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত চলমান রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় তা ধসে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ের টিআর কর্মসূচির আওতায় আওনা ইউনিয়নের স্থল গ্রামে আবুল হোসেনের বাড়ি থেকে পদ্মবিল মসজিদগামী রাস্তার প্যালাসাইটিং ও ভরাটকরণের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা রক্ষার জন্য নির্মিত ইটের গাইড ওয়াল ও ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তা ধসে পড়ে। তাঁদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে কাজ করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এমনটি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিম উদ্দিন, জমিলা, আতাব আলী ও আমিন রহমানসহ কয়েকজন জানান, প্রকল্পের শুরু থেকেই সিমেন্ট ও ইটের মান নিয়ে আপত্তি ছিল। প্রকল্পের নকশা ও নির্ধারিত স্থান অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে তদন্ত করা প্রয়োজন। দায়সারা কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে। তাঁরা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রকল্পের সভাপতি ও মহিলা ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি শুধু কাগজপত্রে নামমাত্র সভাপতি। প্রকল্প ও কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সব কাজ করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা। আমাদের কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কোনো কাজে আমাদের সম্পৃক্ত করা হয় না।’
অভিযোগের বিষয়ে আওনা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, চর ধানাটা-জামিরা সড়কে প্যালাসাইটিংসহ সংস্কারের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া ইটের গাইড ওয়াল ও ঢালাইয়ের কাজ ঠিকভাবেই করা হয়েছে। তবে খুঁটি না দেওয়ার কারণে তা ভেঙে গেছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
এক্সক্লুসিভ এর সর্বশেষ খবর