ফিলিপাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর অবশেষে পুড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ফেরি এমভি জুন অ্যাস্টার-এর ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা। তীব্র তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এতদিন জাহাজটির ভেতরে ঢুকতে পারেননি তারা।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধারকারীরা ফেরিটির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। অভিযানে ডুবুরি ও নার্সদের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের বড় একটি জাহাজও যুক্ত হয়েছে।
রাজধানী ম্যানিলা থেকে পর্যটন শহর করোনের দিকে যাওয়ার পথে বুধবার সন্ধ্যায় ফেরিটিতে আগুন লাগে। শুরুতে ৮৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হলেও পরে যাত্রী তালিকায় থাকা দুজন জাহাজে ওঠেননি বলে নিশ্চিত হওয়ায় সংখ্যা কমে ৮৪ জনে দাঁড়ায়।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র নোয়েমি কায়াবিয়াব বলেন, ফেরিটির ভেতরে প্রচণ্ড তাপ ও ঘন ধোঁয়া থাকায় উদ্ধারকারীদের জন্য প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অসম্পূর্ণ দহনের কারণে ধোঁয়ায় প্রাণঘাতী মাত্রায় কার্বন মনোক্সাইড থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী রোল্যান্ড লেরমা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে ফেরি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি পড়ে গেলে আতঙ্কিত যাত্রীরা তাকে পায়ের নিচে চাপা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে হামাগুড়ি দিয়ে উঠে সাগরে ঝাঁপ দেন তিনি। তার দাবি, আরও কয়েকজন শিশুকেও পানিতে ঝাঁপ দিতে দেখেছেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ফেরিটির কার্গো হোল্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার সময় কিছু যাত্রীর গায়ে লাইফ জ্যাকেটও ছিল না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইনের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। যাত্রী ও পণ্য তালিকায় কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না, পণ্য যথাযথভাবে তোলা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের ভূমিকা যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ জানিয়েছে, তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে।
সূত্র: বিবিসি
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর