হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির সৌদি আরবের প্রধান বিকল্প পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে বর্তমানে সৌদি আরবের যে পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইয়ানবু বন্দরে থাকা তেলের মজুত সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মতো চাহিদা পূরণ করতে পারবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনটি সূত্রও একই তথ্য জানিয়েছে। মিশরেও সৌদি আরবের কিছু তেল মজুত রয়েছে। তবে সেই মজুতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেওয়ার এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ব্যবস্থা।
তবে গত বৃহস্পতিবার সকালে পাইপলাইনটিতে হামলার পরদিন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল রপ্তানির সৌদি ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্প্রতি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত একটি সামরিক জোট প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মিত্ররা সামরিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প অবকাঠামোতে বাধা এবং ইয়ানবু বন্দরে সীমিত মজুত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর