ফিটনেস ধরে রাখতে শুধু কী খাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়—কখন খাচ্ছেন, সেটিও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই খাবারের সময় ও শরীরের জৈবিক ঘড়ির সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগ্রহ বেড়েছে। এই বিষয়েই আলোচনায় এসেছেন তামিল অভিনেত্রী বরলক্ষ্মী শরৎকুমার।
অনেক তারকার মতো তিনিও সন্ধ্যার পর দেরি করে রাতের খাবার খান না। অভিনেত্রীর নৈশভোজের নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। ওই সময়ের মধ্যেই দিনের শেষ খাবার শেষ করে ফেলেন তিনি। এরপর আর কিছু না খাওয়ার চেষ্টা করেন।
বরলক্ষ্মী খাবারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের শৃঙ্খলা অনুসরণ করেন। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন অনুসারে তাঁর খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। ২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তখন সকালের খাবারে কয়েক দিন আমন্ড দুধ ও তরমুজ রাখছিলেন। পরের সপ্তাহে আবার সেই তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়।
শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব রুটিন রয়েছে। সকালে ব্যায়াম করার বদলে বিকেলের দিকে শরীরচর্চা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। সপ্তাহের একটি দিন নিজের পছন্দের খাবারের জন্য রাখেন—রবিবার নিয়ম ভেঙে প্রিয় খাবার খান।
অর্থাৎ তাঁর খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে নির্দিষ্ট সময় মেনে রাতের খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পছন্দের খাবারের জন্য আলাদা দিন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা পরিবর্তন। কঠোর নিষেধাজ্ঞার বদলে নিয়ম মেনে চলাই তাঁর ফিটনেস রুটিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আগেভাগে রাতের খাবার খেলে কী হয়?
পুষ্টি ও ঘুমবিষয়ক গবেষণায় খাবারের সময়কে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। দিনের আলো-অন্ধকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমও পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে দিনের বেলায় বিপাক ও হজমের কার্যক্রম রাতে তুলনায় বেশি সক্রিয় থাকে।
তাই ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করলে কিছু মানুষের জন্য তা উপকারী হতে পারে। খাবার খাওয়ার পর হজমের জন্য শরীর কিছুটা সময় পায় এবং খাওয়ার পরপরই বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস এড়ানো যায়।
এতে অনেকের ক্ষেত্রে রাতের পেট ভার, অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং রাতে অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।
তবে আগেভাগে রাতের খাবার খেলেই ওজন কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ওজন ও স্বাস্থ্যের ওপর মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের মান, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং ব্যক্তির বয়স ও শারীরিক অবস্থাসহ একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলে।
তাই বরলক্ষ্মীর মতো সন্ধ্যার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস কারও জন্য উপকারী হতে পারে, তবে নিজের জীবনযাত্রা ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের সময় নির্ধারণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর