• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১২ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ রাত

জামায়াতের সংস্কার ও একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা একটি বই প্রকাশের পর মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মরহুম ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে দলটির অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব দলের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে একটি বিবৃতির খসড়া তৈরির জন্য ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে অনুরোধ করেছিলেন। ওই বিবৃতিতে সে সময় স্বাক্ষর করা হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলধারার রাজনীতিতে টিকে থাকতে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও রাজনৈতিক চিন্তায় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াতকে মূলধারার রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে নিজেদের মধ্যে সংস্কার করতে হবে। তাদের ‘রিথিংকিং’ প্রয়োজন। দলটির দাওয়াতি কার্যক্রম ও রাজনীতিকে আলাদা করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দিলারা চৌধুরীর মতে, জামায়াতকে ‘জামায়াত করলে বেহেশতে যাবেন’- এ ধরনের ধারণা থেকে সরে আসতে হবে। এবারের সংসদ নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও এটিকে শুধু নিজেদের প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি হতাশা থেকে অনেকে বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন। তাই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হতে হলে জামায়াতকে নিজেদের ভুল সংশোধন এবং অভ্যন্তরীণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, আবদুর রাজ্জাক তার বইয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং জামায়াতের রাজনৈতিক চিন্তা, দর্শন ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতা এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিনের বিতর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিতর্কের অবসান জরুরি। তার মতে, আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে জামায়াতের নেতৃত্বের ঘাটতি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সীমাবদ্ধতা এবং দলটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।

তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে উল্লেখ করা ২০১৬ সালের খসড়া বিবৃতিকে দলের আনুষ্ঠানিক স্টেটমেন্ট হিসেবে মানতে নারাজ।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জামায়াতের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মজলিসে শূরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ—এই তিনটি ফোরাম রয়েছে। ২০১৬ সালের ওই অপ্রকাশিত বিবৃতি এসব কোনো ফোরামেই অনুমোদিত হয়নি। তাই সেটিকে দলের স্টেটমেন্ট বলা যায় না।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে স্টেটমেন্ট লেখার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে সেটি দলের নীতিগত অবস্থান হতে হলে নির্বাহী পরিষদে আলোচনা ও অনুমোদনের পর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং সর্বশেষ মজলিসে শূরায় অনুমোদন হতে হয়। মজলিসে শূরাই দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফোরাম বলেও জানান তিনি।

আবদুর রাজ্জাকের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জামায়াতের নেতাদের উপস্থিত না থাকার বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বা পাননি, তা তিনি জানেন না। তিনি নিজে কোনো আমন্ত্রণ পাননি। যারা আমন্ত্রণ পেয়েও যাননি, তাদের বিষয়ে তারাই বলতে পারবেন। অনুষ্ঠানটি সাংগঠনিক কোনো কর্মসূচিও ছিল না বলে জানান তিনি।

আবদুর রাজ্জাক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের পক্ষে প্রধান আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার সময় ২০১৯ সালে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। পরে নতুন রাজনৈতিক দল এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হন।

২০২৫ সালের ৪ মে দেশে ফেরার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ এই আইনজীবী।

জামায়াতের সঙ্গে ৩৩ বছরের সম্পর্কের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা বইটিতে আবদুর রাজ্জাক মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা, একাত্তরের জন্য ক্ষমা চাওয়া, দলের নাম পরিবর্তন এবং সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন।

বইয়ের ‘রিফর্ম এজেন্ডা উইদিন জামায়াত’ অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, ২০১৯ সালে একপর্যায়ে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি একাত্তরের বিষয় মোকাবিলা, দল বিলুপ্ত করে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দলটি। এর পরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে বইয়ে উল্লেখ করেছেন।

আবদুর রাজ্জাক আরও লিখেছেন, দলের নেতৃত্ব ‘বেশ কয়েকটি নীতিগত ভুল ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং দলটি ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়েছে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মনোভাব বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, ছয় দফার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর জামায়াত বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াত ‘না’ ভোট দেয়নি। তার মতে, ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি ১৯৭১ সালের ভূমিকা মেনে নিয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৬ সালে আবদুর রাজ্জাকের প্রস্তাবিত অবস্থান জামায়াত গ্রহণ করলে দলটির ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]