• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৬ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৮ বিকাল

বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত শান্তি-চিহ্ন ও শান্তির স্মৃতিস্তম্ভ

ছবি: সংগৃহীত

শান্তি—শব্দটি ছোট, কিন্তু এর অর্থ বিস্তৃত। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা মানুষের আকাঙ্ক্ষা, সংঘাতের অবসানের স্বপ্ন কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহিংসতার ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে শান্তির ধারণা। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিকে স্মরণ ও উদ্‌যাপন করতে নির্মিত হয়েছে নানা স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রতীক।

কোনোটির আকৃতি বিশাল পিস্তল, কিন্তু তার নল বাঁকানো। কোথাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে যুদ্ধের অস্ত্র। কোথাও হাজার হাজার কাগজের সারস হয়ে উঠেছে শান্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আবার কোনো স্মৃতিস্তম্ভের স্থাপত্যই এমন, যা দর্শনার্থীকে যুদ্ধ ও শান্তির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের কয়েকটি ব্যতিক্রমী শান্তি-চিহ্ন ও শান্তির স্মৃতিস্তম্ভ।

১. বাঁকানো বন্দুক—সহিংসতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে থাকা ‘Non-Violence’ ভাস্কর্যটি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত শান্তির প্রতীক। সুইডিশ শিল্পী কার্ল ফ্রেডরিক রয়টার্সভার্ডের তৈরি এই ভাস্কর্যে একটি ব্রোঞ্জের পিস্তলের নল গিঁট দিয়ে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি আছে, কিন্তু তা আর গুলি ছুড়তে পারে না—এই সরল দৃশ্যের মধ্যেই রয়েছে শক্তিশালী বার্তা। সহিংসতার পরিবর্তে সংযম ও শান্তির পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানায় ভাস্কর্যটি।

জন লেননের হত্যার পর তাঁর স্মৃতিতে ভাস্কর্যটি তৈরির ধারণা আসে। পরে এটি শান্তি ও অহিংসার আন্তর্জাতিক প্রতীকে পরিণত হয়।

ছবি: সংগৃহীত

২. হাজার কাগজের সারস—এক শিশুর শান্তির স্বপ্ন

জাপানের হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে রয়েছে Children’s Peace Monument। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সদাকো সাসাকি নামের এক কিশোরীর হৃদয়বিদারক গল্প। হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সদাকো। জাপানি লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কেউ যদি এক হাজারটি অরিগামি সারস তৈরি করতে পারে, তার ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই শান্তি ও সুস্থতার আশায় সে কাগজের সারস বানাতে শুরু করে। সদাকো শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেনি। কিন্তু তার গল্প ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। আজ হিরোশিমার সেই স্মৃতিস্তম্ভে অসংখ্য কাগজের সারস জমা হয়—যেন শিশুদের হাতের তৈরি ছোট ছোট পাখিগুলো যুদ্ধহীন পৃথিবীর স্বপ্ন বহন করছে।

ছবি: সংগৃহীত

৩. ‘Let Us Beat Swords into Plowshares’—তলোয়ার থেকে লাঙল

জাতিসংঘের নিউইয়র্ক সদর দপ্তরের বাগানে থাকা আরেকটি ভাস্কর্য শান্তির ধারণাকে তুলে ধরে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। ‘Let Us Beat Swords into Plowshares’ নামের ভাস্কর্যে একজন মানুষ একটি তলোয়ারকে লাঙলের ফালে পরিণত করছেন। এর প্রতীকী অর্থ স্পষ্ট—যে অস্ত্র দিয়ে মানুষকে হত্যা করা হয়, সেই শক্তিই যেন খাদ্য উৎপাদন ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। তলোয়ার যুদ্ধের প্রতীক, আর লাঙল জীবন ও কৃষির। দুটি বিপরীত ধারণাকে একই ভাস্কর্যে এনে যুদ্ধের পরিবর্তে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

৪. যুদ্ধের অস্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ‘শান্তির মানুষ’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন কিছু শান্তি-স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যেখানে যুদ্ধের অস্ত্রকেই শান্তির শিল্পে রূপ দেওয়া হয়েছে। বন্দুক, গোলাবারুদ কিংবা যুদ্ধের অন্যান্য উপকরণকে পুনর্ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে ভাস্কর্য। এ ধরনের শিল্পকর্মের বিশেষত্ব হলো—এগুলো যুদ্ধকে আড়াল করে না। বরং যুদ্ধের উপকরণকে চোখের সামনে রেখে প্রশ্ন তোলে, যে বস্তু ধ্বংস করতে তৈরি হয়েছিল, সেটিই কি শান্তির বার্তা বহন করতে পারে?

এই ভাবনাই অনেক অস্ত্র-রূপান্তরিত শান্তি-ভাস্কর্যের মূল শক্তি।

ছবি: সংগৃহীত

৫. ‘Peace Memorial Park’—একটি পুরো শহর যখন স্মৃতিস্তম্ভ

জাপানের হিরোশিমার Peace Memorial Park প্রচলিত অর্থে একটি মাত্র স্মৃতিস্তম্ভ নয়। পুরো এলাকাটিই যুদ্ধ ও পারমাণবিক ধ্বংসের স্মৃতি বহন করে। এর সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনা Atomic Bomb Dome। ১৯৪৫ সালের পারমাণবিক বোমা হামলার পরও ভবনটির কাঠামোর একটি অংশ দাঁড়িয়ে ছিল। ধ্বংসের মাঝেও টিকে থাকা সেই ভবনটি পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার প্রতীকে পরিণত হয়।

এখানে শান্তি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়—ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে দেখা একটি বাস্তব শিক্ষা।

ছবি: সংগৃহীত

৬. ‘Peace Palace’—যুদ্ধের বদলে আইনের পথে

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত Peace Palace বা শান্তি প্রাসাদ দেখতে অনেকটা রাজকীয় স্থাপনার মতো। কিন্তু এর উদ্দেশ্য যুদ্ধ নয়—আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ধারণাকে এগিয়ে নেওয়া। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভবনটির সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শান্তির প্রতীক হিসেবে এটি অন্য অনেক স্মৃতিস্তম্ভের চেয়ে আলাদা।

এখানে শান্তির ভাষা ভাস্কর্য বা প্রতীকে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও আলোচনায়।

ছবি: সংগৃহীত

৭. ‘Peace Wall’—দেয়াল, অথচ বিভাজনের নয়

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে রয়েছে ‘Peace Walls’—যেসব দেয়াল মূলত সংঘাতের সময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন ও নিরাপত্তার জন্য নির্মিত হয়েছিল। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সংঘাতের স্মারক সেই দেয়ালগুলোর অনেক অংশ পরবর্তী সময়ে শান্তি ও পুনর্মিলনের বার্তা বহনকারী শিল্পকর্মের জায়গায় পরিণত হয়েছে। দেয়ালে আঁকা হয়েছে শান্তি, মানবাধিকার, সংহতি ও ভবিষ্যতের নানা বার্তা।

এক অর্থে, বিভাজনের দেয়ালই পরিণত হয়েছে আলোচনার ক্যানভাসে।

ছবি: সংগৃহীত

৮. ‘Peace Bell’—যুদ্ধের পৃথিবীতে শান্তির ঘণ্টাধ্বনি

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রয়েছে Peace Bell। এটি শুধু একটি ঘণ্টা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বের শান্তির আকাঙ্ক্ষা। জাপানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ঘণ্টাটি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, পদক ও অন্যান্য সামগ্রী গলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ বহু দেশের প্রতীকী উপাদানকে একত্র করে তৈরি করা হয়েছে একটি শান্তির প্রতীক।

বিশেষ দিবসে ঘণ্টাটি বাজানো হয়। সেই শব্দ যেন মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানুষের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

ছবি: সংগৃহীত

৯. শান্তির ‘বীজ’—যুদ্ধের স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন

অনেক দেশে শান্তির স্মারক হিসেবে গাছ, বাগান বা ‘Tree of Peace’ ধরনের স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে একটি সহজ প্রতীকী ধারণা—যুদ্ধ ধ্বংস করে, কিন্তু গাছ ভবিষ্যৎ তৈরি করে। একটি গাছের শিকড় অতীতে, কাণ্ড বর্তমানে এবং নতুন পাতা ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। তাই শান্তির স্মারক হিসেবে গাছের ব্যবহার শুধু নান্দনিক নয়, প্রজন্মের ধারাবাহিকতারও প্রতীক।

বিশ্বের শান্তির স্মৃতিস্তম্ভগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—শান্তির জন্য কোনো একক প্রতীক নেই।
কোথাও বন্দুকের নল বাঁকানো হয়েছে। কোথাও তলোয়ারকে লাঙলে রূপ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কাগজের সারস উড়েছে আকাশের দিকে।
কোথাও ধ্বংসস্তূপই হয়ে উঠেছে ইতিহাসের সাক্ষী। আবার কোথাও ঘণ্টার শব্দ কিংবা একটি গাছের বেড়ে ওঠা শান্তির ভাষা হয়ে উঠেছে।

এসব স্মৃতিস্তম্ভ আসলে শুধু অতীতকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। এগুলো ভবিষ্যতের জন্যও এক ধরনের বার্তা রেখে যায়—যুদ্ধের স্মৃতি যেন আবার যুদ্ধের কারণ না হয়; বরং শান্তির প্রয়োজনীয়তা বোঝার শিক্ষা হয়ে থাকে।

শান্তির স্মৃতিস্তম্ভের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এটাই—এগুলো কথা বলে না, তবু অনেক কিছু বলে।

একটি বাঁকানো বন্দুক বলে, অস্ত্র থামানো সম্ভব।
একটি কাগজের সারস বলে, একটি শিশুর স্বপ্নও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের মূল্য মানুষকে কতটা দিতে হয়।
আর একটি শান্তির ঘণ্টা যেন প্রশ্ন তোলে—পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যেতে চাই?

শান্তির প্রতীকগুলো তাই কেবল পাথর, ধাতু, কাগজ কিংবা স্থাপত্য নয়। এগুলো মানুষের দীর্ঘ ইতিহাসের একটাই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে—ধ্বংসের বদলে জীবন, সংঘাতের বদলে সংলাপ, আর যুদ্ধের বদলে শান্তি।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]