• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ রাত

মাসাইদের বিয়ের রীতিতে বরের পরীক্ষায় শ্যালিকা ভূমিকা কী?

ছবি: প্রতিকী ছবি

বিয়ের আগে হবু বরকে দিতে হয় আত্মসংযমের পরীক্ষা! কনের বোন এসে বসেন তাঁর কোলে। চারপাশে উপস্থিত থাকেন গ্রামবাসী। সবার সামনে হবু বরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তিনি নিজেকে সংযত রাখতে পারলে বিয়ে এগিয়ে যায়, আর সামান্য বেচাল দেখালেই নাকি ভেঙে যেতে পারে বিয়ে!

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমনই একটি দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। বলা হচ্ছে, আফ্রিকার কেনিয়ায় বসবাসকারী মাসাই (Maasai) জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ের আগে হবু বরের বিশ্বস্ততা যাচাইয়ের জন্য এমন অদ্ভুত রীতি প্রচলিত রয়েছে।

দাবিটি সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু সত্যিই কি মাসাইদের বিয়েতে এমন পরীক্ষা নেওয়া হয়? নাকি ঐতিহ্যের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি অযাচাইকৃত গল্প? বিষয়টি বুঝতে হলে জানতে হবে মাসাই জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, তাদের বিয়ের ঐতিহ্য এবং এই ভাইরাল দাবির সত্যতা সম্পর্কে কী বলছে নির্ভরযোগ্য সূত্র।

ছবি: প্রতিকী ছবি

মাসাই জনগোষ্ঠী

মাসাই পূর্ব আফ্রিকার একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। তাদের বসবাস মূলত কেনিয়া ও তানজানিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে। ঐতিহ্যগতভাবে পশুপালন তাদের জীবনযাপন, অর্থনীতি ও সামাজিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গবাদিপশু শুধু তাদের জীবিকার উপায় নয়; ঐতিহ্যগতভাবে সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা এবং পারিবারিক সম্পর্কেরও প্রতীক। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আয়োজনেও গবাদিপশুর ভূমিকা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মাসাই সমাজে গবাদিপশু ঐতিহ্যগত সম্পদের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। বিয়ের ক্ষেত্রে বরপক্ষের কাছ থেকে কনেপক্ষকে গবাদিপশু দেওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে। তবে মাসাইদের সংস্কৃতিকে শুধু পশুপালন কিংবা কয়েকটি প্রচলিত রীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। সময়ের সঙ্গে তাদের জীবনযাপন ও সামাজিক প্রথায়ও পরিবর্তন এসেছে।

মাসাইদের বিয়েতে কী কী রীতি রয়েছে

মাসাইদের ঐতিহ্যবাহী বিয়ে কেবল দুই ব্যক্তির সম্পর্কের বিষয় নয়; এটি দুই পরিবারের মধ্যে সামাজিক বন্ধন তৈরিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ব জাদুঘরের প্রকাশিত তথ্যে মাসাইদের বিয়ের বিভিন্ন ঐতিহ্যের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর-কনেকে আশীর্বাদ করা, দুধ ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকতা পালন, বিশেষ পোশাক ও অলংকার পরিধান এবং কনেকে বরপক্ষের পরিবারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন।

ঐতিহ্যবাহী বিয়েতে কনের সাজসজ্জায় পুঁতির তৈরি অলংকারেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এসব অলংকারের নকশা ও রঙের সঙ্গে মাসাইদের সাংস্কৃতিক পরিচয় জড়িয়ে আছে। বিয়ের আলোচনায় পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ভূমিকা এবং গবাদিপশু বা অন্যান্য উপহারের বিনিময়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে অঞ্চল, পরিবার ও সময়ভেদে রীতির পার্থক্য রয়েছে।

অর্থাৎ, মাসাইদের বিয়েতে নানা ধরনের ঐতিহ্য ও আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সেগুলোর সবকিছুকে একটিমাত্র নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

ছবি: প্রতিকী ছবি

তাহলে শ্যালিকাকে কোলে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার গল্পটি কী

ভাইরাল বর্ণনায় বলা হচ্ছে, বিয়ের আগে কনের বোন হবু বরের কোলে বসেন। এরপর তাঁর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে বিচার করা হয়, তিনি কতটা আত্মসংযমী এবং হবু স্ত্রীর প্রতি কতটা বিশ্বস্ত। দাবিটি আরও চমকপ্রদ হয়ে উঠেছে বিয়ে বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায়। বলা হচ্ছে, হবু বর ওই পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযত রাখতে ব্যর্থ হলে বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই রীতির পক্ষে নির্ভরযোগ্য নৃতাত্ত্বিক গবেষণা, স্বীকৃত সাংস্কৃতিক নথি কিংবা বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে সমর্থিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাসাইদের বিয়ের ঐতিহ্য নিয়ে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে আশীর্বাদ, পোশাক, অলংকার, পারিবারিক সম্পর্ক ও গবাদিপশুর ভূমিকার কথা উল্লেখ থাকলেও কনের বোনকে হবু বরের কোলে বসিয়ে বিশ্বস্ততা যাচাইয়ের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিসেবে পাওয়া যায় না।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এই বর্ণনাকে মাসাই জনগোষ্ঠীর প্রাচীন বা প্রচলিত বিবাহপ্রথা বলে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

ছবি: প্রতিকী ছবি

একটি ভাইরাল ভিডিও কি পুরো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রমাণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অদ্ভুত ঘটনা বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তার সঙ্গে অনেক সময় একটি চমকপ্রদ গল্প জুড়ে দেওয়া হয়। দর্শককে আকৃষ্ট করতে সেই গল্পের সঙ্গে কোনো দেশ, জাতিগোষ্ঠী কিংবা সংস্কৃতির নামও যুক্ত করা হতে পারে। কিন্তু ভিডিওতে কাউকে কোনো বিশেষ আচরণ করতে দেখা গেলেই সেটি একটি জনগোষ্ঠীর স্বীকৃত ঐতিহ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কারা এতে অংশ নিয়েছেন, ঘটনাটি বাস্তব নাকি অভিনীত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যের প্রকৃত সম্পর্ক কী—এসব তথ্য যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে কোনো জনগোষ্ঠীর বিয়ের মতো সংবেদনশীল সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে দাবি করা হলে নৃতাত্ত্বিক গবেষণা, স্থানীয় মানুষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রের প্রয়োজন আরও বেশি। মাসাইদের মতো একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে একটি অযাচাইকৃত ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দিয়ে বিচার করা তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ছবি: প্রতিকী ছবি

বিশ্বস্ততা যাচাইয়ের ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত

বিয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা ও পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ—এ নিয়ে দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু কারও আচরণকে একটি আকস্মিক পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করে তাঁর ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনের বিশ্বস্ততা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। মানুষের সম্পর্ক নির্ভর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যোগাযোগ, সততা, দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাসের ওপর। একটি নির্দিষ্ট আচরণকে একমাত্র মাপকাঠি ধরে কারও চরিত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিসংগত নয়।

তাই ভাইরাল গল্পে বর্ণিত পরীক্ষাটি বাস্তবে কোথাও প্রচলিত থাকলেও সেটিকে যাচাই ছাড়া পুরো মাসাই জনগোষ্ঠীর নিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত হবে না।

শ্যালিকাকে কোলে বসিয়ে হবু বরের আত্মসংযম পরীক্ষা, ব্যর্থ হলে বিয়ে বাতিল—গল্পটি নিঃসন্দেহে কৌতূহল জাগায়। কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক হলেই কোনো দাবি সত্য হয়ে যায় না। নির্ভরযোগ্য সাংস্কৃতিক সূত্রে মাসাইদের ঐতিহ্যবাহী বিবাহপ্রথার নানা দিকের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু আলোচিত আত্মসংযম পরীক্ষার দাবিটির পক্ষে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং সবচেয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হলো, মাসাইদের বিয়েতে এমন রীতি প্রচলিত রয়েছে—এই দাবিকে আপাতত অযাচাইকৃত হিসেবেই বিবেচনা করা। পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে সত্যিই নানা ব্যতিক্রমী রীতি রয়েছে। সেগুলো জানার আগ্রহ অবশ্যই থাকা উচিত। তবে কোনো সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন কিছু জানার আগে সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আজকাল ইন, ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ব জাদুঘর, মাসাই অ্যাসোসিয়েশন

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]