যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের আগে দুই দেশ চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছান শি জিনপিং। প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে তার এই সফর। দেশটিতে পৌঁছানোর পর মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শিকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চলমান ১১ মাসের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর আগে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
বেসেন্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
শির সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ইরান ও তাইওয়ান ইস্যু আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসবে—এমন প্রত্যাশা কম বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধের সময় বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে পণ্যে তিন অঙ্কের শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো রয়ে গেছে। বিরল খনিজ ও কম্পিউটার চিপের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এবং তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও শির বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে শুল্ক কমানো, মাদক পাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। এছাড়া চীনে আটক কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিষয়টিও ট্রাম্প তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
শির সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। এতে অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।
তবে তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছর এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন কিংবা ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে ট্রাম্প ও শির আরেকটি বৈঠক হতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর