দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় এক পৌরসভায় দুই মাসের মধ্যে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কুরহুলানি পৌরসভার টেমবিসা টাউনশিপ থেকে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এসব মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, টেমবিসায় মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্তকারী দলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বলেন, এই মুহূর্তে শুধু মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মরদেহটি একটি কবরস্থানে পাওয়া গেছে।
এর আগে একই পৌরসভায় উদ্ধার হওয়া নয় নারীর বেশির ভাগের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। কয়েকজনের মরদেহ পোশাকহীন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাদের শরীরে যৌন নিপীড়নের আলামত ছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রথম মরদেহটি গত ১৫ জুলাই উদ্ধার করা হয়। ৩৭ বছর বয়সী ওই নারীকে নগ্ন ও তারে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুই দিন পর একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে নবম নারী হত্যার ঘটনায় ৩১ ও ৩৮ বছর বয়সী দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধ থাকতে পারে।
তবে সর্বশেষ মরদেহ উদ্ধারের পরও পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি যে এ ঘটনাগুলো একই সূত্রে ঘটেছে কি না। ফলে এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। দেশটিতে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও সমস্যাটি এখনও ব্যাপক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, প্রার্থনা ও সংহতি কর্মসূচি হয়েছে। ঘটনাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও অধিকারকর্মীরা।
সূত্র: আলারাবাইয়া
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর