ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত জানিয়েছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং পশ্চিমা বিশ্বের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য ইসলামপন্থিদের কেউ কেউ নিজেদের আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ডাকসু ও সাদিক কায়েমকে নিয়ে আর কিছু লিখবেন না ভেবেছিলেন। তবে পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি আবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। তার দাবি, সাদিক কায়েমের বক্তব্যের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের খেলাধুলা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, সমালোচকদের কেউ নারীদের খেলাধুলা করা বা পর্দা না করা নিয়ে আপত্তি তুলছেন না; বরং আপত্তির বিষয় হলো নির্দিষ্ট একটি আয়োজন ও সেখানে দেওয়া বক্তব্য।
মাদানীর দাবি, ইসলামি পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো সংগঠনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এমন একটি আয়োজনে প্রকাশ্যে অংশ নেওয়া এবং আয়োজকদের প্রশংসা করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের ‘মডারেট’ ও ‘প্রগতিশীল’ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতা শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির উদাহরণ টেনে পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে আগামী এক-দুই বছরে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ইসলামপন্থিদের কেউ কেউ আরও বেশি আপস করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পোস্টের শেষ দিকে মাদানী ক্ষমতার জন্য কোনো অবস্থান নিলেও ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেই ক্ষমা গ্রহণ করা হবে কি না, তা আল্লাহর সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর